নজরদারিতে বিএনপি ও জামায়াতের ১৫০ নেতা

দীর্ঘ বিরতির পর রাজনীতির মাঠ ফের গরম হচ্ছে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। মূলত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে সরকার পতন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ ১৪-দলীয় জোট ৫ জানুয়ারি থেকে রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী জোটের আন্দোলন নিষ্ফল করতে দলীয় কর্মীবাহিনীসহ প্রশাসনকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলটি। এজন্য বিএনপি-জামায়াতের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে দুপক্ষের এ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে রাজপথে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দা ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশে গোয়েন্দারা রাজনীতির মাঠ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির আন্দোলন সফল করতে জামায়াত শরিক হবে কিনা, তারা কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, রাজপথে কতটুকু শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে, তার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা বিএনপি-জামায়াত জোটের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় দেড় শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সার্বিক কর্মকান্ডর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। ওইসব নেতা কার কার সঙ্গে বৈঠক করছেন, কথা বলছেন, এসব বিষয়ে কড়া নজরে রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে নজরদারিতে রয়েছেন বিএনপি-জামায়াত ঘরানার বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারাও। এছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচির পেছনে বিএনপি বড় কোনো নাশকতামূলক কর্মকা- চালানোর গোপন মিশন নিয়েছে কিনা সে খবরও নিচ্ছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ইতোমধ্যে ঢাকার সব থানা-ওয়ার্ডের সক্রিয় বিএনপি নেতাদের বাসাবাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই তালিকা ধরে শিগগির জোরালো অভিযানে নামবে পুলিশ-র‌্যাব।

সূত্র আরো জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দাঙ্গা দমনে ব্যবহৃত নিরাপত্তা সামগ্রীর মজুদ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ। বিশেষ করে টিয়ার শেল, লাঠি, বাঁশি, ঢাল, সাউন্ড গ্রেনেড, লেগগার্ড, হেলমেট পর্যাপ্ত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ মামলা পেন্ডিং আছে সে খোঁজও নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গণতান্ত্রিক যে কোনো কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেবে না। তবে কেউ গণতন্ত্রের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের চেষ্টা চালালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আগামী তিন মাস দেশের রাজনীতি সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে। এ সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট লাগাতার হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দিয়ে দেশকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এছাড়া অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরপূর্তির দিনে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ নামে ওইদিন বিজয় শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগসহ ১৪-দলীয় জোট। ওইদিন বিকালে আওয়ামী লীগ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মিছিল-সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপি ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে ওইদিন ঢাকাসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। দলটি ৩ জানুয়ারিও ঢাকায় সমাবেশ করতে বদ্ধপরিকর। এজন্য বিএনপি ৩ ও ৫ জানুয়ারি মতিঝিলের শাপলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। দলটির নেতৃস্থানীয়রা বলছেন, সমাবেশ করতে দেওয়া না হলে ঢাকা ঘেরাও, লাগাতার অবরোধ এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ গতরাতে আমাদের সময়কে বলেন, আওয়ামী লীগ সুস্থ ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আর বিএনপি সব সময় অপরাজনীতি করে আসছে। ৫ জানুয়ারি বিএনপি ঢাকায় গণতন্ত্রের নামে অপরাজনীতির আশ্রয় নিলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে বিএনপিকে রাজপথে মোকাবিলা করা হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ আমাদের সময/ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪।

Post a Comment

Previous Post Next Post