প্রধানমন্ত্রী বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেছেন -মকবুল আহমদ

গণতন্ত্র হত্যা দিবসের এ কলঙ্কজনক দিনে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে যে মিথ্যাচার করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ গতকাল সোমবার বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ জানুয়ারি ২০১৪, একটি কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ দিন জনগণের ন্যায্য ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে। নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ এবং জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপের উপর তাগিদ দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের একগুঁয়েমিতা ও ক্ষমতা দখলের অসৎ মনোবৃত্তি সংলাপকে ব্যর্থ করে দেয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দিয়ে একটি সাজানো ও পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করে। দেশের জনগণ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোট কেন্দ্রে যায় নি। জনগণের নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষিতে সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন, এটি নিয়ম রক্ষার ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্বাচন। তিনি আরো বলেছিলেন, প্রয়োজনের তাগিদেই এ নির্বাচন করতে হয়েছে। আজ এক বছরের মাথায় এসে তিনি ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর জাতির সামনে তার ভাষণে যে মিথ্যাচার করেছেন তা দুঃখজনক ও কলঙ্কজনক। প্রধানমন্ত্রী তার বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেছেন। যার জন্য তিনি এ ধরনের আবোল-তাবোল বক্তব্য প্রদান করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তার এ মিথ্যা ও উদ্ভট ভাষণ প্রত্যাখ্যান করছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বেকারত্ব লাঘব, ব্যবসা-বাণিজ্য, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যে বিভ্রান্তিকর ও কথার পঙ্ক্তিমালায় সাজানো ভাষণ তিনি পেশ করেছেন তা বাস্তবতা বিবর্জিত একটি হাস্যকর উপাখ্যান ছাড়া আর কিছু নয়।
ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয় মানুষকে কঠিন দুর্দশায় নিপতিত করেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গ্যাস, পানিসহ মানুষের মৌলিক সমস্যার কোন সমাধানই আওয়ামী সরকার করতে পারেনি। শিক্ষাঙ্গনে এ সরকারের আমলে নকল প্রবণতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পিএসসি, জেএসসিসহ সকল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। বিসিএস পরীক্ষায় জালিয়াতির ন্যক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত করেছে এ সরকার। অথচ: প্রধানমন্ত্রী এসব কিছুকে পাশ কাটিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রহসনের বিচার সম্পর্কে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আয়োজিত এ বিচার বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলের কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এ বিচার সম্পর্কে তীব্র আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। দেশের জনগণ বিচারের নামে এই প্রহসনকে মেনে নেয়নি।

ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনকাল দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি-হলমার্ক-পদ্মা সেতুসহ নানান অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে পরিপূর্ণ। আওয়ামী সরকার স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে আওয়ামী দুর্নীতিবাজদের সার্টিফিকেট দেয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিতান্তই হাস্যকর। তিনি বক্তব্য রাখার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন। এর আগে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আমারদেশ পত্রিকার ছাপাখানা বন্ধ করে দিয়ে সম্পাদককে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শাসনকাল হত্যা, খুন, গুম ও জনগণকে নির্যাতনের বর্বরোচিত ঘটনায় ভরপুর। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব হত্যা, খুন ও গুমের জবাব জানতে চায়। প্রধানমন্ত্রী সেসব এড়িয়ে নিজেদের যে সাফাই গেয়েছেন তা এক চাতুর্যপনা ছাড়া আর কিছু নয়। এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর এ মিথ্যা ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে।

জনগণকে বিভ্রান্ত করার মিথ্যাচারপূর্ণ অসত্য ভাষণ থেকে বিরত থেকে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।

দৈনিক সেনবাগের কণ্ঠ/ ০৬ জানুয়ারি ২০১৫।

Post a Comment

Previous Post Next Post