সাভারে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার রিভলবারের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে মহিমা আক্তার নামের এক স্কুলছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার মজিদপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। মহিমা স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
গুরুতর অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে মহিমার অস্ত্রোপচার চলছিল। ঘটনাটির পেছনে কোনো রহস্য আছে নাকি দুর্ঘটনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের মজিদপুরের বাড়ি থেকে বিকেলে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরক্ষণেই তাঁর বাড়ির পাশে একটি খোলা জায়গায় খেলতে থাকা স্কুলছাত্রী মহিমা আক্তার (১০) চিৎকার দিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে।
আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের বোন নাজনীন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, গুলিটি মহিমার ডান পায়ের হাঁটুর কাছে বিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসার জন্য তিনিই একটি রিকশায় করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি জানান, তাঁর ভাই বাসায় রিভলবার পরিষ্কার করছিল। এ সময় হঠাৎ মিস ফায়ার হয়ে গুলিটি শিশুটির পায়ে লাগে। শিশুটি বা তার পরিবারের কোনো সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। এটা নিছক একটা দুর্ঘটনা। তবে ঘটনার পর যুবলীগ নেতা আবু আহমেদ নাসিম পাভেলকে তাঁর বাড়িতে বা এলাকায় পাওয়া যায়নি। শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান এক ব্যবসায়ীর প্রাইভেট কার চালান বলে জানা গেছে।
সাভার মডেল থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, যুবলীগ নেতা আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে। তিনি বলেন, অসতর্কতার কারণে কোনো লাইসেন্সধারীর অস্ত্রের আঘাতে কারো কোনো ক্ষতি হলে তার দায় লাইসেন্সধারীকে নিতে হবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক সেনবাগের কণ্ঠ/ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪।