বরগুনা : অংকুজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুন্দর আলী গাজীকে জনসমক্ষে পিটিয়ে জখম করেছেন বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান ওরফে মিন্টু।
জমি দখলে বাধা দেওয়ার কারণে তাঁর ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার তালতলী বন্দর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ঘটনার দিন রাতে অসুস্থ শিক্ষক সুন্দর আলী গাজী জানান‘ আমার মানসম্মান সব শেষ করে দিল। এর চেয়ে মেরে ফেললেও ভালো হতো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষক সুন্দর আলী গাজী (৫৫) কয়েকজনের সঙ্গে তালতলী বন্দরের বাবুল মিয়ার হোটেলে চা পান করছিলেন। হঠাৎ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সেখানে হাজির হন। এরপর টেনেহিঁচড়ে ও হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে পেটাতে তাঁকে দোকানের বাইরে নিয়ে যান। এরপর গালাগাল করতে করতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে তাঁর (চেয়ারম্যান) কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আটকে মোটা লাঠি দিয়ে দ্বিতীয় দফা সুন্দর আলীকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে মারধর না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি নিবৃত্ত হননি। কক্ষে চেয়ারম্যানের গাড়িচালক কালু মিয়া ও সাত-আটজন সহযোগী উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধরের একপর্যায়ে সুন্দর আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা বাবু মং ফোকে ডেকে নিয়ে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মারধরে ঘাড় ও মাথার কিছু অংশ ফেটে শিক্ষকের জামাকাপড় রক্তে ভিজে গেলে নতুন জামা এনে পরানো হয়। রাত নয়টার দিকে তালতলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হানিফ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর সামনে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই রেখে পৌনে ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এ সময় আত্মীয়স্বজন এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান।
উদ্ধারকারী ওই এএসআই ছাড়াও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসা কর্মকর্তা বাবু মং ফো প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে ডাকার পর তাঁর কার্যালয়ে যাই এবং সুন্দর আলীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখি। তাঁর ঘাড়, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেখানে বসেই তাঁর ঘাড়ে ড্রেসিং করি।’
শিক্ষকের স্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘটনার পর এসপি সাহেবকে ফোন করেছিলাম। তিনি থানায় মামলা করতে বলেছেন। কিন্তু মামলা করে কী হবে। ওদের বিরুদ্ধে মামলা করলে আমরা এলাকায় থাকতে পারব না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’ এরপর তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এসপি বিজয় বসাক বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেছি। এখন তিনি যদি মামলা করেন তবে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
http://www.sheershanewsbd.com/2015/07/25/89759