নোয়াখালী : (সেনবাগ প্রতিনিধি) : গতকাল সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নে কাদরা মাষ্টার বাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে উত্তর কাদরা যুব সমাজের উদ্যোগে চ্যানেল আই মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাজাহান সাহেবের সভাপতিত্বে তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান মেহমান বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ কুমিল্লা রেসকোর্স মাসজিদুল ক্বোবার সন্মানিত খতিব আল্লামা হযরত মাওলানা মোল্লা নাজিম উদ্দিন সাহেব কোরআনুল কারিমের সূরা লোকমান থেকে তাফসীর শুরু করেন।
প্রধান মেহমান, ভূমিকা ছাড়াই তোহিদী জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, এক সময় গোটা দুনিয়া মুসলমানেরা শাসন করেছিল এই কোরআনের আইন দিয়ে। আর আজ মুসলমান গোটা দুনিয়ায় মার খাচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, জেলে বন্ধি হচ্ছে, অনেককে ফাঁসিও দেওয়া হচ্ছে। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন মুসলমান আজ কোরআন থেকে রাসুল (সা:) এর অনুসরণ থেকে দূরে সরে গেছে তাই। তিনি বলেন, সময় এসেছে মুসলমানদেরকে আবার সেই হারানো গৌরব পিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি কোরআনের সূরা লোকমানে, লোকমান হাকিম তার সন্তানকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে নির্দেশর কথা উল্লেখ করে তৌহিদি জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদেরকে পিতামাতার সাথে স্বদব্যবহার করতে হবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা যাবেনা, নামাজ কায়েম করতে হবে, সৎ কাজের আদেশ ও সহযোগীতা এবং অসৎ কাজে শক্ত ভাবে বাধা প্রদান বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মোল্লা নাজিম বলেন, আমাদের প্রত্যকের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত জীবনের সর্বক্ষেত্রে সৎ কাজ করতে হবে, আর অসৎ কাজে বাধা দিতে হবে তবে মনে রাখতে হবে আপনি যখনই অসৎ কাজে বাধা দিতে যাবেন তখন কেউ আপনাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিবেনা ! তার প্রতিদানে আপনার উপর নেমে আসবে বর্বরোচিত অত্যাচার, নির্যাতন, আপনাকে ঝুলানো হবে ফাঁসিতে, আপনি হয়ে যাবেন তখন জংঙ্গী, মৌলবাদী। শাসক গোষ্ঠী থাকবে তখন জালিমেরা। যেমন করেছিলো নবী রাসুলদের জামানায়। কিন্তু আপনাকে সকল অত্যাচার জুলুম, নির্যাতন, ধৈর্যেরর সাথে মোকাবেলা করতে হবে।
প্রধান মেহমান, ফেরাউনের কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ফেরাউনের চাইতেতো এমন শক্তিশালী এখন কেউ নাই ! সেই ফেরাউনও শাসন ক্ষমতার অনেক অহংকার করেছিলো, অথচ আল্লাহ সেই ফেরাউনেরে পানিতে ডুবাই বিদায় করছে। আজকে আমাদের দেশেও বড় বড় ফেরাউন নামের জাহিলদের পয়দা হয়েছে যারা কুরআন পড়েন, কুরআন শুনেন, কিন্তু কুরআনের শাসন চান না, আইন মানেন না।
তিনি নাস্তিকদের সম্পর্কে বলেন, আমরা নাস্তিক মুক্ত বাংলাদেশ চাই, আমরা কোরআন সুন্নার আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, কোনো সরকার উৎখাত করার জন্য নয়, কোনো গোষ্টির বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন নাস্তিক মোরতাদদের বিরুদ্ধে। সারাদেশে তাফসীর মাহফিলে কোরআনের কথা শুনতে যায়, তারা হয়ে যায় জঙ্গী, আর শাহাবাগে নাস্তিকদের গান শুনতে গেলে তাদের সঙ্গী হয়। এ হলো তাদের অবস্থা।
তিনি আরো বলেন, আজ কোরআনের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে, আলেম ওলামার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। আলেমদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে নিয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। রাসুল (সাঃ) কে গালি দেওয়া হচ্ছে, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আল্লামা সাঈদীর মত আলেমকে মিথ্যা অজুহাতে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, ( সাঈদীর কথা বলার সাথে সাথে পুরা মাহফিলে সকলের চোখে পানিতে আর কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যায়)। এ সময় নারেতাকবীর আল্লাহু আকবার স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে মাহফিলস্থল।
অথচ আলেম নামের কলংক নাস্তিকদের দোষর বায়তুল মোকাররম মসজিদের বর্তমান খতিব, ও শোলাকিয়া ঈদ গায়ের ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসুদ ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিজি নাস্তিকদের দালালি করছে আজ তারা সকল ইসলাম বিরুধী কার্যকলাপ করছে সরকার তাদের বিচার না করে তাদেরকে মদদ দিচ্ছে, তাদেরকে গ্রেফতার না করে হক্কানী আলেমদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তিনি সরকারকে হুশিয়ারি করে বলতে চান, অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, নবী রাসুলদের জামানায় এ রকম নির্যাতন করা হয়েছে, আজও হচ্ছে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা সকল জালিমকে উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। তিনি বলেন ইতিহাস সাক্ষী, জালিম শাসক নয় বরং মজলুমরাই যুগে যুগে বিজয়ী হয়েছেন।
আপনারাও যদি ইসলাম বিরুধীদের পক্ষ ত্যাগ না করেন আল্লাহর আযাব আর গজবের জন্য অপেক্ষায় থাকুন। তিনি ফেরাউনের কথা সরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ফেরাউনের চাইতে তো শক্তিশালী হন নাই, আমার আল্লাহ ফেরাউনকে পানিতে চুবাইয়া বিদায় করেছন, নমরুদকে জুতা পিটা করে বিদায় করেছেন, আপনাদের অবস্থা এর ব্যতিক্রম হবেনা। কোরআনের পক্ষে থাকুন বিজয় সু নিশ্চিত।
তিনি বলেন আমরা কোনো আলেম বিরুধী নয়, কোনো হক্কানী পীর বিরুধী নয়, কিন্তু যে সকল আলেম যে সকল পীর নাস্তিকদের সহযোগী কবর পূজারী আমরা তাদের বিরুদ্ধে, আমাদের আন্দোলন তােদর বিরুদ্ধে।
তিনি মাহফিলের উপস্থিতি সকলকে নাস্তিক মুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে কোরআনের ছায়াতলে সমবেত হয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন।
পরিশেষে মুসলিম উম্মার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, সারাদেশে র্র্যাব, পুলিশ, বিজিবির ধর পাকড়ের মধ্য দিয়েও মাহফিলে নামে তৌহিদি জনতার ঢল।
সেনবাগ প্রতিনিধি/এমএআর/সেনবাগের কণ্ঠ/ ১৩ জানুয়ারী ২০১৫।