‘আমি তোমাদের অভিবাবক ছিলাম। এ সরকার যদি আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটা হবে আমার শাহাদাতের মৃত্যু। আমার শাহাদাতের পর মহান রাব্বুল আলামীন তোমাদের অভিবাবক হবেন। তিনিই উত্তম অভিবাবক। সুতরাং তোমাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে এমনিভাবেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা। রাত আটটায় স্বজনদের ওই সাক্ষাতের আগে তিনি জানতেন না কারা কর্তৃপক্ষ তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের তৎপরতা চালাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছেই প্রথম তিনি এ সংবাদ শোনেন।
কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিলসহ পরিবারের সদস্যরা এসব কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের জরুরি চিঠি পাওয়ার পর রাত ৮টায় আব্দুল কাদের মোল্লার সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য আসেন স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের ২৩ সদস্য। রাতেই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে এমন তৎপরতার বিষয়টি অবহিত ছিলেন না আবদুল কাদের মোল্লা। তখন পর্যন্ত তার শারীরিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয়নি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে জানতে পারেন, কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের জন্য তাদের ডেকে এনেছে।
এসময় আবদুল কাদের মোল্লা পরিবারের সদস্যদের বলেন, ‘আমি তোমাদের অভিবাবক ছিলাম। এ সরকার যদি আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটা হবে আমার শাহাদাতের মৃত্যু। আমার শাহাদাতের পর মহান রাব্বুল আলামীন তোমাদের অভিবাবক হবেন। তিনিই উত্তম অভিবাবক। সুতরাং তোমাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধেই আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। শাহাদাতের মৃত্যু সকলের নসিবে হয় না। আল্লাহতায়ালা যাকে শহীদী মৃত্যু দেন সে সৌভাগ্যবান। আমি শহীদী মৃত্যুর অধিকারী হলে তা হবে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমার প্রতি ফোঁটা রক্ত ইসলামী আন্দোলনকে বেগবান করবে ও জালেমের ধ্বংস ডেকে আনবে।’
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘আমি নিজের জন্য চিন্তিত নই। আমি দেশের ভবিষ্যত ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত। আমি আমার জানা মতে কোনো অন্যায় করিনি। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করিনি, করবো না। দুনিয়ার কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্ন্ই আসে না। জীবনের মালিক আল্লাহ। কিভাবে আমার মৃত্যু হবে তা আল্লাহই নির্ধারণ করবেন। কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্তে আমার মৃত্যু কার্যকর হবে না। আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ীই আমার মৃত্যুর সময় ও তা কার্যকর হবে। সুতরাং আমি আল্লাহর ফায়সালা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেব।’
পরিবারের সদস্যদের তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা ধৈয্যের পরিচয় দিবে। একমাত্র ধৈর্য্য ও সহনশীলতার মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালার ঘোষিত পুরষ্কার পাওয়া সম্ভব। দুনিয়া নয়, আখেরাতের মুক্তিই আমার কাম্য। আমি দেশবাসীর কাছে আমার শাহাদত কবুলিয়াতের জন্য দোয়া চাই। দেশবাসীর নিকট আমার সালাম জানাইও।’