জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, “রাষ্ট্রের কাঠামোগুলো যেভাবে দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, তাতে আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
রোববার দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ফিরোজ রশীদ বলেন, “ব্যাংকিং খাতে আমরা যে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট দেখছি, তাতে বোঝা যায় ব্যাংকিং খাত তছনছ হয়ে গেছে।”
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “সোনালী ব্যাংক লুটপাট হলো, বেসিক ব্যাংক লুটপাট হলো; কিন্তু অর্থমন্ত্রী বললেন, বোর্ড অব ডিরেক্টর এই লুটপাটে জড়িত নয়। জনতা ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। কোনো কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতে আনা হলো না। অথচ ওই তিন ব্যাংক থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হলো।” বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও কিছু কর্মকর্তা লুটপাট করে খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কালো টাকা প্রসঙ্গে ফিরোজ রশীদ বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দিলে, এই টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটি কালো টাকা রয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, “পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেল একটা গোষ্ঠী, কিন্তু তাদের কিছুই হলো না। কত মানুষ আত্মহত্যা করল, কত মানুষ পথে বসল, অথচ অর্থমন্ত্রী বললেন গুটি কয়েক দুষ্ট লোক এটা করেছে। তাদেরও কিছুই হলো না। ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখল না।”
ঢাকা শহরে নিজের নামে প্লট বরাদ্দ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, “রাজউকের সাবেক দরবেশ খ্যাত চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী এই প্রতিষ্ঠান লুটেপুটে খেয়েছে। আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনোদিন জমির জন্য আবেদন করিনি। কিন্তু সরকারের গত মেয়াদে আমি আবেদন করলাম; শুধু ভিন্নমতের রাজনীতি করার কারণে আমার ও আমার ছেলের নামে প্লট বরাদ্দ দেয়া হলো না।”
ফিরোজ রশীদ বলেন, “মন্ত্রী-এমপিরা তো ভূমি অফিসে যান না, তাই বোঝেন না সেখানে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়। ওখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না ভূমি অফিসের লোকরা।”
উৎসঃ নতুন বার্তা