হত্যাকাণ্ড করে বিরোধী দলের উপর চাপাচ্ছে সরকার : রফিকুল ইসলাম ||

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলছে সরকার তখন জনগণ ও বিশ্বসম্প্রদায়ের দৃষ্টি ভিন্নদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্যদের দিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও যানবাহনে নিজেরাই অগ্নিসংযোগ করে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই অপচেষ্টা দেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে এর সমাধানের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশে-বিদেশে সকল সমর্থন হারিয়ে সরকার এখন দমননীতি অবলম্বন করার মাধ্যমে স্বৈরশাসন প্রলম্বিত করতে চায়।

দেশের মানুষকে জিম্মি রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা নির্বিচারে প্রতিবাদমুখি মানুষকে নির্যাতন, হত্যা ও গুম করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই ঐক্য ভাঙ্গার ক্ষমতা ফ্যাসিস্ট সরকারের নেই। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ছাড়া চলমান আন্দোলন থেকে মুক্তিকামী জনতা ঘরে ফিরে যাবে না।

তিনি বলেন, জনগনের স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনে রাজধানী থেকে সারা দেশ আজ বিচ্ছিন্ন, একেকটি এলাকা মুক্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আগামীকালের ঘোষিত সারাদেশের প্রতিটি থানায় থানায় বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানায় বিক্ষোভে দলীয় নেতাকর্মীসহ দলমত, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে মুক্তিকামী সচেতন নগরবাসীকে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহবান জানান।

রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উস্কানিমূলক, হিংসাত্মক, আক্রমণাত্মক ঘোষণার পর থেকে মানুষের জীবনের আর কোন নিরাপত্তা নেই। এই ভয়াবহ সঙ্কট থেকে জাতিকে উদ্ধার করবার জন্য হঠকারিতা, দাম্ভিকতা, ঔদ্ধত্য ও অসহনশীলতা পরিহার করে নির্যাতন-নিপীড়নের পথে না গিয়ে সহনশীলতা, সমঝোতা ও শান্তির পথে আসুন। সময় নষ্ট না করে দেশ ও জাতির স্বার্থে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে যেভাবে চারদিকে প্রতিহিংসার দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছে তা তাদের জন্যই একদিন বুমেরাং হবে। সময়ের ব্যবধানে তাদেরকে নিজেদের জ্বালানো আগুনেই আত্মাহুতি দিতে হবে।

গণতন্ত্রের জন্য, নিজেদের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য এই দেশের সচেতন মানুষ অতীতে যেমন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছে তেমনি চলমান এই আন্দোলনকেও জনগণ চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারা পেট্রোল বোমা বানাচ্ছে এবং ফাটাচ্ছে তা সাধারণ মানুষ জানে। বিগত কয়েকদিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমা ও ককটেলসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের ধরা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের অফিস থেকে পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কোথাও কোথাও পেট্রোল বোমা মারতে গিয়ে কিংবা বানানোর সময় সরকারদলীয় কর্মীরা আহতও হয়েছে। পুলিশ একদিকে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের পেট্রোল বোমাসহ ধারার পরেও তাদের পরিচয় পাওয়ার পর ছেড়ে দিচ্ছে অন্যদিকে, কোন প্রকার মামলা ছাড়াই বিরোধী নেতা-কর্মীদের এমনকি সাধারণ মানুষদেরও কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করছে।

তাদের নির্যাতন থেকে নারী-শিশুও রেহাই পাচ্ছেনা। প্রশাসনের চিহ্নিত কিছু অতি-উৎসাহী কর্মকর্তার উষ্কানীতেই এই নির্বিচার হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ শরীরের কোন কোন অংশে গুলি করতে হবে তাও বলে দিচ্ছেন। জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যখন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নিজেদেরকে রাজনীতির সাথে জড়াচ্ছেন, তখন জনগণ তাদেরকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই গণ্য করবে।

মহানগরী আমীর বলেন, সরকার জনগনের দাবীর প্রতি তোয়াক্কা না করে গণগ্রেফতার ও নিপীড়ন চালাচ্ছে। আজও রাজধানীর ভাসানটেক সহ নগরীর বিভিন্ন স্থান, মেস ও বাসা-বাড়ী থেকে সাধারন ছাত্রদের আটক করে তাদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করছে।

রাজধানীর মুগদা থেকে মহিলা সহ ৬ জন পল্টন থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করে নিপীড়ন করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবী করেন মহানগরী আমীর। তিনি বলেন, সরকারের তীব্র বাঁধা, হুমকি-ধমকি, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও আজ রাজধানীর উত্তরা, রমনা, তেজগাঁও, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ি, সবুজবাগ, কোতয়ালী, শনির আখড়া, কদমতলীসহ বিভিন্ন থানা ও এলাকায় অবরোধ সমর্থনে জামায়াতের কর্মীরা মিছিল, পিকেটিং ও রাজপথ অবরোধ করে।

জনগণের এ আন্দোলন বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে ২০ দলীয় জোটের সকল নেতা কর্মীসহ কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক ও ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসার আহক্ষান জানান।

এছাড়া অবৈধ সরকার পতনের দাবীতে ২০ দলের আহবানে চলমান অবরোধসহ গণগন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে প্রতিটি কর্মসূচীতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরবাসীকে অভিনন্দন জানান মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

সেই সঙ্গে গনতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে অবরোধসহ শনিবার রাজধানীর প্রতিটি থানায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহ আগামী দিনে ঘোষিত সকল কর্মসূচী সফল করতে রাজধানীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে মাঠে নেমে আসার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহবান জানান।

দৈনিক সেনবাগের কণ্ঠ/ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।

Post a Comment

Previous Post Next Post