নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এ দেশের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছে ৫ জানুয়ারি। ওই দিন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘মানবাধিকার হরণ: এ কী পরিস্থিতিতে দেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্য তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। দ্বিতীয় পর্বে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। এই পর্যায়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হরণের ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান রক্ষার জন্য এ নির্বাচন করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন পার হওয়ার পর এখন তিনি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা বলছেন। তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিকে যেভাবে না বলব ঠিক পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে একইভাবে না বলব।
মান্না বলেন, যারা মানবাধিকার কর্মী তারা আজকে এই সরকারের বাহিনী হিসাবে কাজ করছে। সরকার বলছে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, যেখানে এক বছরে গুম, খুন হয়েছে ৮২ জন। যদি মানুষ শান্তিতেই থাকত তাহলে মানবধিকার লঙ্ঘনের কথা আসত না।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, সারা দেশ ক্ষমতাসীনরা ঘিরে রেখেছে শুধু কথা বলার জন্য রেখেছে প্রেস ক্লাব ও তার সামনের অংশটা। জনগণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শহীদ মিনারে গিয়ে তাদের মনে কথা বলতে চায়, কিন্তু তারা (সরকার) দেবে না। এভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের মানবাধিকার কতটা লঙ্ঘন হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। গত নয় মাসে দেশে ৮২টি অপহরণ, গুমের ঘটনা ঘটেছে। যা অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গুমের শিকার পরিবারগুলো সরকারের কাছে তাদের স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার জন্য আবেদন জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
আলোচনায় আরও অংশ নেন কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী শাহনাজ হুদা প্রমুখ।
দৈনিক সেনবাগের কণ্ঠ/ ১০ ডিসেম্বর ২০১৪