আওয়ামী রাজনীতিতে কী পেলাম ? একরামের স্ত্রী তাসমিন

ফেনী: দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামের পরিবারে আওয়ামী রাজনীতিতে অনীহা দেখা দিয়েছে। একরাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারটির মধ্যে শুরু হয়েছে এই টানপোড়েন।

আওয়ামী রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে একরামের স্ত্রী তাসমিন আক্তার বলেন, ‘আওয়ামী রাজনীতি থেকে কী পেলাম ? বরং আমার স্বামীকে হারালাম। তারপরও মূল্যায়ন পেলাম না। উপ-নির্বাচন করবো কি না, সেটাও কেউ জিজ্ঞাসা করেনি।’

তবে একরাম হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ও মোজাম্মেল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের এই হত্যা ও নোংরা রাজনীতির সঙ্গে আমরা জড়াতে চাই না। রাজনীতিতে জড়াতে গেলে আবার খুন হতে হবে। এখন চলছে খুনের রাজনীতি। নেতারা এখন কর্মী পালে না, গুণ্ডা পালে। ভবিষ্যতে একরাম পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়াবে না। আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রশ্নই আসে না।’

কার্যত সেটিই দেখা গেল একরাম পরিবারের কেউ ফুলগাজী উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায়।

রোববার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত একরাম পরিবারের কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে ওই পরিবার থেকে কারো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আর সুযোগ থাকল না।

একরাম সমর্থক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এলাকা। সেখানে অনেক ত্যাগ পরিশ্রমের ফলে আওয়ামী লীগকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছিলেন একরাম। সেই একরাম পরিবার আজ আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত।’

একরামের এক ঘনিষ্টজন বলেন, ‘দল থেকে কোনো সমর্থন না পাওয়ায় একরাম পরিবার মর্মাহত। আগামীতে তারা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়াবেন না।’

এর আগে একরাম হত্যার পর তার স্ত্রী তাসমিন আক্তার আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘স্বামী নিহত হওয়ার পর দল থেকে কেউ পরিবারের খোঁজখবর নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ছিলাম। কিন্তু কোনো মূল্যায়ন পাইনি। আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে আছি।

এদিকে, বহুল আলোচিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নিহত একরামের স্ত্রী তাসমিন আক্তার একক সমর্থন পেলে নির্বাচন করবেন এমন ঘোষণা দিলেও অবশেষে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বাংলামেইল২৪ডটকম

Post a Comment

Previous Post Next Post