বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাস আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ছাত্র হত্যা, নির্যাতন তাদের নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে। রগ কাটা, পা কাটা ও কব্জি কাটায় দড়্গ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একেক জন কসাইয়ে পরিণত হয়েছে। বই কলমের পরিবর্তে চাপাতি-দা হাতে নিয়ে ছাত্রলীগ আজ শিক্ষাঙ্গনকে কসাইখানায় পরিণত করেছে।
তিনি বুধবার ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনের সভাপতিত্বে বুধবার রাজশাহীর এক মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদক মোবারক হোসাইন।
শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ সরকারের প্রশ্রয়ে থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্ত্রাসের আঁখড়া বানিয়েছে। কিন্তু তাদের ভুলে গেলে চলবে না, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নেতা রাসেলের ওপর যে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার জন্য ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের অবশ্যই মাশুল দিতে হবে। মধ্যযুগীয় এমন বর্বরতার দায়ে এইসব সন্ত্রাসীদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাদের পুলিশি প্রটোকলে চলাফেরাই প্রমাণ করে তারা কতটা জনবিচ্ছিন্ন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন সন্ত্রাসী রাসেলের ওপর হামলা করেছে, তারা প্রশাসনসহ সবাই জানে। তারপরও যখন তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না, তখন ওপর মহলের যোগসাজশেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়। রাসেলসহ শিবির নেতাকর্মীদের ওপর যারা বিভিন্ন সময়ে হামলা করেছে, তাদের লিষ্ট ছাত্রজনতার কাছে রয়েছে। কারা মদদ দিয়েছে, কারা নির্দেশ দিয়েছে, তাদেরও ছাত্রজনতা চিনে রেখেছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় না আনা হলে সময় মত ছাত্রসমাজ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।
তিনি সমবেত শিবিরের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষাভূমিতে কোন সন্ত্রাসীকে এই ইঞ্চি ছাড় দেয়া হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের, ছাত্রদের প্রিয় সংগঠন ছাত্রশিবিরের। ছাত্রলীগ নামের সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়। ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষাঙ্গন ছেড়ে দিলে তারা অচিরেই শিক্ষাঙ্গনকে জঙ্গল ও কসাইখানায় পরিণত করে ছাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আপনাদের সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে।
উৎসঃ আমারদেশ