বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ৩ জুলাই আন্তর্জাতিক প্লাস্টিকমুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে পলিথিন ও পলিথিনজাত দ্রব্যসামগ্রীর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে ব্যপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ২০০২ সালে আইন পাস করে পলিথিনব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে পলিথিন বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৭টি দেশে পলিথিনব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেসব দেশে পলিথিনব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইন্ডিয়া (মুম্বাই, হিমাচল প্রদেশ), তাইওয়ান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (সানফ্রানসিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া), কানাডা, ইরিত্রিয়া, রুয়ান্ডা, সোমালিয়া, কুক আইল্যান্ড, কেনিয়া, উগান্ডা, পাকিস্তান (সিন্ধু প্রদেশ)।
এছাড়া যেসব দেশ প্লাস্টিক শপিংব্যাগের উপরে বিক্রয় কর ধার্য করেছে সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ।
এসডোর পাশাপাশি পলিথিন বিরোধী আন্দোলনে আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক গ্রিন পিস ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ, গায়া, আইপিইএন কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে আইনানুসারে সকল প্রকার পলিথিন শপিংব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ ও বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে। শুধু আইন করলেই তো হবে না, প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ। আমাদের দেশে এ আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) বেশকয়েটি পরিবেশবাদী সংগঠনের।
পরিবেশ নেতাদের দাবি, দেশে সুশাসনের অভাবেই পলিথিন নিষিদ্ধ আইন দ্রুত কার্যাকর হচ্ছে না। পলিথিনের ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরে তারা বলেন, পলিথিন এমন একটি ক্ষতিকরক পদার্থ যা কখনই পচে না। আর এতে মাটির উবর্রা শক্তি কমিয়ে দেয় এবং নদীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এ কারণে নদীর পরিবেশ দুষিত হয়। পরিবেশ দূষণের ফলে নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এছাড়াও পলিথিনে মোড়ানো খবার গ্রহণ করলে ক্যানসার ও চর্মরোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
এমতাবস্থায় আমাদের দেশে পলিথিন নিষিদ্ধ আইন দ্রুত কার্যকরে সরকারকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে পরিবেশবাদিরা বলেন, পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগসহ সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে।
এছাড়াও পলিথিনের তৈরি জিনিসপত্র ও এর কাঁচামালের উপর উচ্চহারে কর আরোপ করার দাবি জানান তারা।
বাংলামেইল২৪ডটকম