নূর হোসেন-তারেক কথোপকথনের রেকর্ড তদন্তকারীদের হাতে

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর নূর হোসেনের সঙ্গে ২৩ বার মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন র্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে এক আইনজীবী এমনটিই দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, 'ওই কথোপকথনের রেকর্ড এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।' তারেক সাঈদকে পঞ্চম দফায় গতকাল পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিম হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ এ দফায় আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপম পাঁচ দিনের মঞ্জুর করেন। তারেক সাঈদের আগে চার দফায় মোট ২৫ দিনের রিমান্ডে ছিলেন। সাত খুনের মামলায় র্যাবে তারেক সাঈদের অধীনস্থ সাবেক দুই কর্মকর্তা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেজর (অব.) আরিফ হোসেন গত বুধবার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) এম এম রানা বৃহস্পতিবার জবানবন্দি দেন।

'গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে' : বিকাল ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ মণ্ডল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং আরও তথ্য সংগ্রহে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানিতে কোর্ট সিএসআই আশরাফ তারেককে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, 'তারেক সাঈদের নির্দেশেই সাত খুন সংঘটিত হয়েছে। প্রধান আসামি নূর হোসেনের সঙ্গে তারেক সাঈদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মাদক ও চিটাগাং রোডের বাস থেকে তারা চাঁদা তুলতেন। খুনের জন্য নূর হোসেনের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।' জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, 'সাত খুনকে যদি নাটক হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর পরিচালক তারেক সাঈদ। তিনি পুরো র্যাব বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছেন।' অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, 'অপহরণ থেকে শুরু করে নূর হোসেনের সঙ্গে ২৩ বার মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন তারেক সাঈদ। সেই ক্যাসেট এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে। আইনজীবী চন্দন সরকার হত্যার পুরো দায় তার। কারণ অপহরণের সময় মেজর আরিফ বলেছিলেন, এক আইনজীবী অপহরণের ভিডিও করছেন। তাকে কী করব? তারেক বলেন_পিক আপ দেম।' বিচারক তারেক সাঈদকে কথা বলার সুুযোগ দিলে তিনি বলেন, 'আমি এর আগে বক্তব্য দিয়েছি। আজ কিছু বলার নেই।' আদালতে তাকে বেশ বিমর্ষ দেখা যায়। ছিলেন ক্লিন সেভ। শুনানির সময় অর্ধশতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ছিল গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড়। কারণ সাত খুনে মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) এম এম রানা ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই গতকাল তারেক সাঈদও স্বীকারোক্তি দিতে পারেন এ ধারণা থেকে গণমাধ্যমের কর্মীরা ভিড় জমান। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে অপহরণ করা হয়। কয়েকদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নূর হোসেনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র্যাবের ওই তিন কর্মকর্তা তাদের হত্যা করেন বলে অভিযোগ নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যানের। তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে গত ১৭ মে ভোরে ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এম এম রানা ১৮ মে ভোররাতে গ্রেফতার হন।

নজরুলের স্ত্রীসহ চারজনের সাক্ষ্য নিল র্যাব : নজরুল ইসলামের স্ত্রী, হত্যা মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটিসহ চারজনের সাক্ষ্য নিয়েছে র্যাবের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউসে গতকাল এ সাক্ষ্য নেওয়া হয়। অন্য তিনজন হলেন নজরুলের সহযোগী আমানউল্লাহ, এলাহী ও ইদ্রীস আলী ইদু। চারজনই বলেছেন, 'র্যাবের ওই কর্মকর্তারা সাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত। নূর হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা এ কাজ করেছেন।' অতিরিক্ত মহাপরিচালক আফতাব উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে র্যাব। অন্য সদস্যরা হলেন_ র্যাব-১০ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার, সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদ হোসেন ও র্যাব-৩ এর কর্মকর্তা মেজর মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান।

উৎসঃ   BDprotidin

এম/এ/আর/সেনবাগ

Post a Comment

Previous Post Next Post